ব্রেকিং

পাহাড়-সমতলের সব জাতিসত্তাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ AM BST ১১ বার পঠিত
পাহাড়-সমতলের সব জাতিসত্তাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

collected

সম্প্রীতি ও সাম্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের আহ্বান

পাহাড় ও সমতলের সব জাতিসত্তার সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি, সাম্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান শক্তি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজার মাঠে আয়োজিত ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বান্দরবান পৌরসভার উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবটির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন তিনি।

পাহাড় ও সমতলের মধ্যে বিভেদ নয়, সমান মর্যাদার বার্তা

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সব জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর মতে, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলা বাংলাদেশের বহুমাত্রিক পরিচয় ও সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সেখানে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত সত্তা, বহুমাত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা বাসস্থানের কারণে কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি না করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলকে এক করে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ

বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের ত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের সূচনা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজনটিতে পাহাড় ও সমতলের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

পাহাড়ি সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, সার্বিক উন্নয়ন এবং সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মাতৃভাষা সংরক্ষণ এবং এসব বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। সাচিং প্রু জেরীর ভাষ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন।

তিনি আরও বলেন, দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকার আন্তরিক।

‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে বৃহৎ কর্মসূচির পরিকল্পনা

রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রনির্বিশেষে সমঅধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দ্য ও সাম্যের ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘রেইনবো নেশন’-এর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে একটি বড় কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর আয়োজন এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি শুভ সূচনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: