ব্রেকিং

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সংস্কার, সাত দিনেই বেহাল রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ AM BST রংপুর ১৪ বার পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সংস্কার, সাত দিনেই বেহাল রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক

collected

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে দ্রুত সংস্কার করা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের একটি অংশ সাত দিন না যেতেই আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের প্রলেপ উঠে গেছে, ভেঙে গেছে নতুন বসানো সিমেন্টের ব্লক। এতে সড়কে আবারও গর্ত তৈরি হওয়ায় একই জায়গায় নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু করতে হয়েছে। ঘটনাটি সড়কের কাজের মান, স্থায়িত্ব ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাত দিনের মধ্যেই উঠে গেছে পিচ, ভেঙেছে ব্লক

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের মধ্যে আনুমানিক দুই কিলোমিটারে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়। আগের চার দিন ধরে চলা ওই সংস্কারকাজে পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়। এরপর ব্লকের ওপর দেওয়া হয় পিচের প্রলেপ।

দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হওয়া এ সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও পথচারীরা। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের আশঙ্কা সত্যি হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার করা কয়েকটি জায়গায় ব্লক ভেঙে গেছে এবং পিচের প্রলেপ উঠে আগের মতো গর্ত তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে আবারও মেরামতকাজ চলছিল।

কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের

সড়কের একই অংশে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সংস্কার করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সড়ক মেরামতের পর কয়েক দিনের মধ্যেই আবার গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংস্কারকাজের মান ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

হাজীপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী রাকিব ইসলাম বলেন, সাত দিন আগেই সড়কের ওই অংশে ইটের পাটাতন তুলে সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে ব্লকগুলো ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। এখন একই জায়গায় আবার সংস্কার করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, সড়কটি স্থায়ীভাবে টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন।

একই মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী বাসচালক আব্দুর রশিদও সড়কের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত অংশটির অবস্থা খুবই খারাপ এবং এ এলাকায় দুর্ঘটনাও ঘটে। তাঁর মতে, বারবার সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সড়কটি ভালোভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন।

আগের সংস্কারকাজ নিয়েও উঠেছিল অভিযোগ

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে সংস্কারকাজ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কাজ চলাকালে টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে পাঁচ কেজি কম পাথর ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করে। এ কারণে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় যান চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

তবে পাথর কম ব্যবহারের অভিযোগ এবং বর্তমান ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

সড়কের ভিত্তি দুর্বল বলে দাবি প্রকৌশলীর

রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা বলেন, বারবার সংস্কার করা হলেও পিচ উঠে যাচ্ছে এবং ইটের পরিবর্তে বসানো ব্লকও ভেঙে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এমনটি হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সড়কের নিচের ভিত্তি দুর্বল বলে উল্লেখ করেন।

প্রকৌশলী কামাল পাশার মতে, সড়কের নিচের ফাউন্ডেশন খারাপ থাকলে ওপরের অংশে বারবার পিচ বা অন্য উপকরণ ব্যবহার করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কটি টেকসই করতে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে।

সড়কটির বর্তমান অবস্থা স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও যান চলাচলের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একই স্থানে বারবার সংস্কার করার পরিবর্তে ক্ষতির প্রকৃত কারণ নির্ণয়, কাজের মান যাচাই এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে সংস্কারকাজে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: