আইনজীবীদের নিয়ে মন্তব্য: এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৩ PM BST ৩৫ বার পঠিত
আইনজীবীদের নিয়ে মন্তব্য: এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ

collected

আইনজীবীদের নিয়ে প্রকাশ্যে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনজীবী সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে প্রচলিত আইনে আদালতে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের পক্ষে ওই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। সেখানে তিনি আইনজীবীদের পেশা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে এমপির বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীরা রাতে দোয়া করেন, যাতে পরদিন কয়েকজন মাদকসেবীকে পেয়ে তাদের জামিন করিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একই বক্তব্যে আইনজীবীরা সামান্য টাকার বিনিময়ে মাদকসেবীদের জামিন করান বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে ওই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন, মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আইনজীবীরা বিচারব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ এবং তাদের পেশাগত ভূমিকা নিয়ে একজন সংসদ সদস্যের এমন মন্তব্য দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক বিরোধ ও বিভিন্ন মামলায় নাগরিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের ভূমিকার কথাও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশদাতা আইনজীবী ওমর ফারুক তুষারের দাবি, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের কারণে আইনজীবীদের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের কাছেও আইনজীবীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। নোটিশে এ ধরনের বক্তব্যকে মানহানির অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারার কথাও বলা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য সংসদ সদস্যকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এই তথ্যের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা এবং আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ব্যাখ্যা এ বিষয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: