collected
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় চায়ের দোকানে বসে থাকা মো. জামাল উদ্দিন (বৃদ্ধ) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করেছে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি। শনিবার (গতকাল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গুলি
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে জামাল উদ্দিন তাঁর বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মাথায় হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন। এরপর তাঁরা জামাল উদ্দিনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে তাঁর বাঁ হাঁটু ও ঊরুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামাল উদ্দিন
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে আলোচনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। আসন্ন নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। এ নিয়ে সম্প্রতি এলাকায় পোস্টারও সাঁটানো হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার পেছনে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের ধারণাকে ঘটনার প্রমাণিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তদন্ত করছে পুলিশ
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে জামাল উদ্দিনকে গুলি করে পালিয়ে যান।
ওসি আরও জানান, কেন তাঁকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটির পর হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং গুলির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা তাঁদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি।