collected
রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৪৯টি মামলা হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ১০ কেজি গাঁজা, ১৭ হাজার ২১৬ পিস ইয়াবা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৭৭০ টাকা জব্দ এবং দুজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ডিএমপির একাধিক বিভাগ অংশ নেয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৫ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫০ জন এবং মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯৬ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৬৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ২৪ জন এবং উত্তরা বিভাগ থেকে ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে আটক করা হয়েছে আরও চারজনকে।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এরপর তেজগাঁও বিভাগে ৯৬ জন এবং ওয়ারী বিভাগে ৫০ জন আটক হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয় বলে বিজ্ঞপ্তির তথ্য থেকে জানা যায়।
অভিযানে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১০ কেজি গাঁজা ও ১৭ হাজার ২১৬ পিস ইয়াবা। পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনাগুলোর স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পৃথক ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া অভিযানে ১০টি মোবাইল ফোন ও ১৩ হাজার ৭৭০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে দুজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, কী পরিস্থিতিতে তাঁরা ভুক্তভোগী হয়েছিলেন এবং তাঁদের কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক, অপরাধে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে আটক হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সামগ্রীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিটি ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে পরবর্তী তথ্য জানা যেতে পারে।