collected
রসিংদীর রায়পুরায় তারেক মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা অলিউর রহমানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া পাড়ি দেন তারেক মিয়া। সেখানে অবস্থানকালে তিনি মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের দাবি। একপর্যায়ে দেশটির পুলিশ তাঁকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
প্রায় আড়াই বছর আগে দেশে ফেরার পর থেকে তারেক নিয়মিত মাদক সেবন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকের টাকা জোগাড় করতে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) তারেক বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বাবা অলিউর রহমান ছেলেকে গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে তারেকের হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশি তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রশীদ জানান, তারেক মাদকাসক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। মাদকের টাকার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বাবা ছেলেকে হত্যা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নিহত তারেক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে পরিবারে কলহ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন। নিহতের ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাঁকে আটক করা এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।