তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির মামলা, ফেসবুকে অভিনেত্রীর প্রশ্ন ‘এর পেছনে কারা?’

Pinky Saha Pinky Saha ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪০ PM BST ১ বার পঠিত
তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির মামলা, ফেসবুকে অভিনেত্রীর প্রশ্ন ‘এর পেছনে কারা?’

Photo Collected

মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁকে সমন জারি করেছেন এবং আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিশা। শাড়ি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ, মামলা ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে নিজের দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তানজিন তিশা দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির একটি কোলাজ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশবিশেষ কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বক্তব্যের মূল অর্থ বদলে গিয়ে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিশার প্রশ্ন, একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন নষ্ট করে দেওয়ার জন্য এত বড় পরিকল্পনা কেন করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, অভিযোগ উঠলেই কি কোনো ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে ধরে নেওয়া যায়? তাঁর মতে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটিকে সরাসরি সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত।

নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, মামলা করা কি এতটাই সহজ যে শুধু অভিযোগ করলেই সেটি সত্য হয়ে যাবে? একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর সম্মানহানি করা কতটা যুক্তিসংগত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছেন তিনি।

তানজিন তিশার দাবি, চলমান ঘটনাগুলো নিয়ে তাঁর কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর এবং তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তবে এসব তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশের দায়িত্ব কার—আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার—সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সাধারণ মানুষ যেন কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ বিশ্বাস করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেন, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী।

তিশাকে ঘিরে শাড়ি সংক্রান্ত বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে তিশাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত প্রচারণা করেননি এবং শাড়িটির মূল্যও পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়। তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। তাঁর দাবি, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এর বাইরে ৭৫ হাজার টাকা দামের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন। পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাড়িটি ফেরত চাওয়ার পর তাঁকে গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন সানায়া।

ওই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে বাদীপক্ষ ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে শাড়ি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন একাধিক মামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে গড়িয়েছে। এর মধ্যেই হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলায় আদালতের সমনের মুখে পড়েছেন তানজিন তিশা। অন্যদিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে সত্যতা যাচাই এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: