collected
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতির মধ্যে বেতন নির্ধারণে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গ্রেডভিত্তিক বেতন সমন্বয়ের অসংগতি, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব এবং আইবাস++ সফটওয়্যারের সমস্যায় আটকে আছে বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন নির্ধারণ। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই লাখের বেশি সরকারি চাকরিজীবী নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নাও পেতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মীর বেতন নির্ধারণের কাজ চলছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ কর্মীর বেতন চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি দুই লাখ কর্মীর হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জটিলতা নিরসন করা না গেলে তাঁদের আপাতত পুরোনো নিয়মে বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণে অসংগতি
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সে হিসাবে ১১তম গ্রেডের কর্মীর প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২তম গ্রেডের কর্মীর চেয়ে ৭০০ টাকা বেশি হওয়ার কথা।
কিন্তু বেতন সমন্বয়ের একটি পর্যায়ে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, হিসাবের নিয়ম প্রয়োগের পর ১১তম গ্রেডের একজন কর্মীর মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা হলে ১২তম গ্রেডের কর্মীর বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। এতে পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ কর্মীর তুলনায় জুনিয়র কর্মীর বেতন বেশি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
বেতন কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হওয়ার পর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। আগামী ১ নভেম্বর থেকে চার মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন চাকরিজীবীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক দিন আগে বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন নির্ধারণ অসম্পূর্ণ থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বেতন নির্ধারণে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে জটিলতার পাশাপাশি আইবাস++ সফটওয়্যারের সমস্যাও কাজের গতি ব্যাহত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পেশাগত অভিজ্ঞতার ঘাটতি থেকে কিছু ভুল তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে এখন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছ থেকে সংবাদমাধ্যমে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ থাকলেও সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ চলছে বলে জানা গেছে।
বকেয়া অর্থ পরে পরিশোধের আশ্বাস
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব কর্মীর বেতন নির্ধারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না, তাঁরা আপাতত আগের নিয়মে বেতন পাবেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ, বকেয়া টাকা বাতিল হচ্ছে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তবে ১ নভেম্বরের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা কাটানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে স্বচ্ছ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন নির্ধারণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।