collected
বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রদেশের মধ্যে শিক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থী বিনিময়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চীনের ইউনান প্রদেশের প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আবদুল খালেক এবং ইউনান প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক ঝাও দেরং বৈঠকে নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন।
শিক্ষার্থী বিনিময় ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা
বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইউনান প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক ঝাও দেরং সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডিপ্লোমা পর্যায়ের কলেজ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ সময় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরিস্থিতি এবং ইউনানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন ঝাও দেরং।
তিনি যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আরও শিক্ষাপ্রতিনিধিদলকে ইউনান সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক বিনিময়
বাংলাদেশের সিনিয়র সচিব মো. আবদুল খালেক বৈঠকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ইউনান প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।
দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।
কারিগরি শিক্ষা ও চীনা ভাষার প্রসার
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং চীনা ভাষা শিক্ষার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন মো. আবদুল খালেক। এসব ক্ষেত্রে ইউনানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং চীনা ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ দুই পক্ষের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসে। যৌথ গবেষণা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চীনে পড়াশোনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ
বৈঠকে মো. আবদুল খালেক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী চীন ও ইউনানের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ চীনকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
এ ছাড়া ইউনান প্রদেশের প্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সিনিয়র সচিব মো. আবদুল খালেকের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব জিএম ফারহান ইস্তিয়াক এবং সফরসঙ্গী মা শুয়াই অংশ নেন। দুই পক্ষের আলোচনায় শিক্ষা বিনিময়, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা শিক্ষায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।