ব্রেকিং

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা ইসির

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৭ PM BST ২৪ বার পঠিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা ইসির

collected

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা, অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই সংলাপে বসার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় কমিশন

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, শুধু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই কমিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসি। এ জন্য রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি জানান, কমিশন কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই কাজ করছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দলগুলোর সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে কমিশন। সিইসি জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইসি।

তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা

অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক বছরে শেষ হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পরে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ও বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়েও কমিশনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ভোটার তালিকা ও আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ

২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি। এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রমে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ, নির্বাচনী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ করছে কমিশন।

সিইসি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: