ব্রেকিং

নতুন পে স্কেলে ১ নভেম্বর বেতন, বকেয়া পাবেন চার মাসের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৬ PM BST ১১ বার পঠিত
নতুন পে স্কেলে ১ নভেম্বর বেতন, বকেয়া পাবেন চার মাসের

collected

নতুন জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী আগামী রোববার (১ নভেম্বর) চার মাসের বকেয়সহ বেতন পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ। তবে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবারও পুরোনো পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। তাঁদের নতুন কাঠামোর বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন পে স্কেলে বেতন নিয়ে জটিলতা

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে সবাই এখনো নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি।

ফলে নির্ধারিত সময়ে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকেই। যাঁদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে, তাঁরা নতুন স্কেল অনুযায়ী বেতন ও প্রাপ্য বকেয়া পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, যাঁদের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের আপাতত আগের কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া পরে পরিশোধের কথা রয়েছে।

গ্রেড ও ভাতা নির্ধারণে অসংগতির অভিযোগ

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম ঠিক রাখা, উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণ এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাবের ক্ষেত্রে অসংগতি দেখা দিয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত আইবাস++ সফটওয়্যারের জটিলতা। এসব সমস্যার কারণে অনেক দপ্তরে বেতন নির্ধারণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে কেউ কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পদোন্নতির পর আয় কমার আশঙ্কা

বেতন নির্ধারণের জটিলতার কারণে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন শর্ত, গ্রেড ও ভাতার হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

নতুন পে স্কেলের জটিলতা দূর করার জন্য অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। তবে এসব অসংগতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা সমাধানের নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি।

পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন পায়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান থাকায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারী একই সময়ে নতুন স্কেলের সুবিধা পাচ্ছেন না। যাঁদের বেতন নির্ধারণ বাকি রয়েছে, তাঁদের আপাতত পুরোনো স্কেল অনুযায়ী বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হলে প্রাপ্য বকেয়া পরিশোধ করা হবে। এ অবস্থায় বেতন নির্ধারণের অসংগতি দূর করা এবং বকেয়া পরিশোধের সময়সূচি স্পষ্ট করা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: