collected
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার দাবি করে তরমুজখেত তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ জন্য বন বিভাগের লাগানো ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ খননযন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলার পাশাপাশি মাটি কেটে বেড়িবাঁধ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বন বিভাগ।
পটুয়াখালী বন বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাউখালীর চরসাইনবোর্ড এলাকার সংরক্ষিত বনভূমিতে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ মীর, মানিক মোল্লা ও সাব্বির মীরসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লাগানো ঝাউবাগানের গাছ উপড়ে ফেলে জমি চাষের উপযোগী করার অভিযোগ উঠেছে।
কাউখালী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল আহমেদ খান জানান, ২০২২ সালে চরসাইনবোর্ড এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছ রোপণ করেছিল বন বিভাগ। গত শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বনাঞ্চলে প্রবেশ করে খননযন্ত্র দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলেন। পরে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে তরমুজখেত তৈরির প্রস্তুতি নেন তাঁরা।
স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বাধা দেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমিটি বন্দোবস্ত নিয়েছেন দাবি করে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যান। পরে জেলা কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে শনিবার রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় জিডি করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ওই বনাঞ্চলে খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ নষ্ট করে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় বন বিভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আসামি করে রাঙ্গাবালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে। মামলাটি এখনো চলমান।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ মীর বলেন, বন বিভাগ যে জমিকে বনভূমি দাবি করছে, সেটি তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈধভাবে জমিতে মাটি কেটে তরমুজখেত তৈরি করছেন এবং বন বিভাগ অহেতুক তাঁদের সঙ্গে বিরোধে জড়াচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার জাহিদুল ইসলাম ওই এলাকাকে খাসজমি উল্লেখ করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে জমিটি খাস দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্ত দেন। এ ঘটনায় তহশিলদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বন বিভাগ।
পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, জমির বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য গত ৩ আগস্ট ও ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, বন্দোবস্ত দেওয়া জমিটি মূলত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, বন বিভাগ, ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ দাবির পক্ষে থাকা কাগজপত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে জমিটি বন বিভাগের হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, বন বিভাগের পাঠানো চিঠি তাঁর হাতে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও তদন্তের মাধ্যমে জমিটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমির মালিকানা ও বন্দোবস্তের বৈধতা নিয়ে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে এখন কাগজপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।