collected
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, আরপি পরিবহনের একটি বাস বরিশাল থেকে আসছিল। অন্যদিকে বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি ট্রাক। মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে যানবাহন দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকে থাকা আরও অন্তত ২৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা উদ্ধারকাজ শুরু করে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে এক শিশু নাটোর সদর হাসপাতালে মারা যায়। এ ছাড়া অন্য হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। উদ্ধারকাজ ও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরানোর কারণে সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
নাটোর-পাবনা মহাসড়কটি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। এই সড়কে বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চলাচল করে। ভোরের দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ কীভাবে ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করাই এখন সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। দুর্ঘটনার কারণ ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।