collected
জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ১৭৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, ১৬৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। তৃতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং চতুর্থ অবস্থানে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি—উভয় শহরের স্কোর ১৬৩। ১৫৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ৭৩ স্কোর নিয়ে তালিকার ২৮ নম্বরে রয়েছে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বাতাসের মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংস্থাটির মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর পর্যন্ত বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে বায়ুর মান বা একিউআই নির্ধারণে দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাকে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।