collected
পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজার গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা মো. আলী গণমাধ্যমকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১১টি ইউনিটের চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। এর দুই মিনিট পরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরে পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত ১১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনজুর খান প্লাজার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত দোকান রয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব গোডাউনে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুত রাখা হয়। অধিকাংশ গোডাউনেই বিপুল পরিমাণ মালামাল ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলার এক পাশে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে দোকান ও গোডাউনের মালিক এবং কর্মচারীরা সেগুলো বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে যান। এতে ভবনটির ভেতরে থাকা মালামাল আগুনের ঝুঁকিতে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, অধিকাংশ গোডাউন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। পাশাপাশি গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুত থাকায় আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। একইভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করা হয়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।