collected
চিকিৎসক দম্পতি বিপ্লব চন্দ্র দাস ও আঁচল রায় বিয়ের পর নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। খিলগাঁওয়ে আঁচলের মা–বাবার বাসার পাশে ছোট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ফ্রিজ, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কিনেছিলেন তাঁরা। ভবিষ্যতে বরিশালে গিয়ে একসঙ্গে সংসার করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আঁচল।
গত ২১ সেপ্টেম্বর আঁচলের জ্বর আসে। সেদিন অসুস্থতার মধ্যেও স্বামীর সঙ্গে পূজার কেনাকাটা করেছিলেন তিনি। পরীক্ষা করে তখন তাঁর প্লাটিলেট ছিল এক লাখ। পরে দ্রুত প্লাটিলেট কমতে থাকলে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এইচডিইউ ও পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
বিয়ের পর চাকরির কারণে দীর্ঘ সময় আলাদা শহরে থাকতে হয়েছে দুজনকে। আঁচল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং পরে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন, আর বিপ্লব কর্মসূত্রে ছিলেন জামালপুর ও বরগুনায়। ৪৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিপ্লব সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বরিশালে পোস্টিং নিয়ে সেখানে নতুন করে সংসার শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।
নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে তাঁদের পরিচয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সম্পর্কের শুরু এবং পরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। আঁচল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এমআরসিপি পার্ট ওয়ানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছিলেন। স্বামী বিপ্লব তাঁকে মেধাবী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পেশাগত দক্ষতা নিয়ে গর্বের কথা জানিয়েছেন।
আঁচলের মৃত্যুর পর বিপ্লব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি, বিয়ের স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এখন তাঁর কাছে স্মৃতি হয়ে আছে। আঁচল একসময় মজা করে বলেছিলেন, তিনি আগে মারা গেলে যেন তাঁর সমাধিতে সাদা ফুল দেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুর পর সেই কথাই স্মরণ করে বিপ্লব সাদা গোলাপ নিয়ে তাঁর সমাধিতে যান।