collected
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, আইনি সংকট এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষ আদালত গঠনের নীতিগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আদালত গঠনের রূপরেখা বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফ্যুজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) আয়োজিত অভিবাসনবিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ভাই-বোনদের যেকোনো ধরনের সমস্যা, আইনি সংকট এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের নীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ আদালত গঠনের রূপরেখা এখন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুতই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হবে।
প্রবাসীদের আইনি সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি অভিবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি হবে বলে সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে আদালতটির কার্যক্রম, এখতিয়ার ও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আলোচনা সভায় রামরুর উপদেষ্টা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার দেশের অর্থনীতিতে অভিবাসন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান অনস্বীকার্য। অভিবাসন খাতকে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।
এ লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন ড. সি আর আবরার। পাশাপাশি অভিবাসন খাতের উন্নয়ন ও কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় অভিবাসন খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এবং রামরুর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সভায় অংশ নেন।
প্রবাসীদের আইনি সমস্যা দ্রুত সমাধানের পরিকল্পনার পাশাপাশি অভিবাসন খাতকে সুশৃঙ্খল ও টেকসই কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।