ব্রেকিং

সুন্দরবনে পর্যটনের চাপে বিপন্ন প্রকৃতি, বন্ধ হচ্ছে ১৮ অবৈধ রিসোর্ট

Sumon Biswas Sumon Biswas ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ PM BST খুলনা জেলা ৪৮ বার পঠিত
সুন্দরবনে পর্যটনের চাপে বিপন্ন প্রকৃতি, বন্ধ হচ্ছে ১৮ অবৈধ রিসোর্ট

বিশ্ব ঐতিহ্যের সুন্দরবনে বাড়ছে পর্যটনের চাপ। অপরিকল্পিত রিসোর্ট নির্মাণ, বিলাসবহুল নৌযানের শব্দদূষণ ও পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনসংলগ্ন অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য আধার সুন্দরবন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঢাল হিসেবে কাজ করা এই ম্যানগ্রোভ বন এখন পর্যটনের বাড়তি চাপের মুখে। একদিকে সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র, অন্যদিকে বিলাসবহুল নৌযানের উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনের বিকট শব্দ—দুইয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুন্দরবনসংলগ্ন অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনকে ঘিরে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি রিসোর্ট রয়েছে।

বন সংরক্ষক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪৩ জন পর্যটক। এ সময়ে পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৬ টাকা। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নৌযানের সংখ্যাও। বর্তমানে শুধু খুলনা থেকে সুন্দরবনে যাতায়াতের জন্য ৮০টির বেশি পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল করছে।

বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলেও চাপ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতিরিক্ত পর্যটক ও মানুষের উপস্থিতির কারণে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে বনের আরও গভীরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

শুধু শব্দদূষণ নয়, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্যও সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ওয়ানটাইম প্লাস্টিক, প্লেট, কাপ, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বনের মাটিতে পড়ে থাকছে। এসব বর্জ্য সুন্দরবনের শ্বাসমূল ঢেকে ফেলায় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া নিয়মনীতি না মেনে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট, ট্যুরিজম স্পট ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বনের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হলে এ ধরনের স্থাপনা ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশবান্ধব পর্যটনের তাগিদ

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সুন্দরবন বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বাস্তবায়ন একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে সুন্দরবনসংলগ্ন অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বড় নৌযানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালাতে শক্তিশালী জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। এতে শব্দদূষণের পাশাপাশি বনের স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের মতে, বনের ভেতরে অতিরিক্ত বিলাসিতা নিয়ে গেলে সেটিকে প্রকৃতি পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজম বলা কঠিন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুলের মতে, সুন্দরবনকে ঘিরে ‘পরিবেশবান্ধব ট্যুরিজম’ ধারণাটি এখনো অনেকাংশে খাতাকলমেই সীমাবদ্ধ। ফলে পর্যটন ও সুন্দরবন সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য আনতে কার্যকর পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: