ব্রেকিং

১ অক্টোবর শুরু কৃষক কার্ড বিতরণ, প্রথম ধাপে পাবেন ৫৬ জেলার ১ লাখ কৃষক

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ AM BST ৪৭ বার পঠিত
১ অক্টোবর শুরু কৃষক কার্ড বিতরণ, প্রথম ধাপে পাবেন ৫৬ জেলার ১ লাখ কৃষক

collected

প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করে সরকারি সহায়তা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বড় পরিসরে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলার এক লাখ কৃষক এই কার্ড পাবেন। ফেনীর ফুলগাজী থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। একই দিনে নির্বাচিত এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবে প্রণোদনার অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কৃষকরা বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ প্রণোদনা পাবেন। তবে এই অর্থ শুধু নির্ধারিত কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কেনার জন্য কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা।

কৃষক কার্ডকে শুধু পরিচয়পত্র নয়, কৃষি সহায়তা পাওয়ার একটি ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সার ও কৃষি উপকরণ বিক্রির দোকানে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। কার্ডধারী কৃষক এসব মেশিনের মাধ্যমে নির্ধারিত উপকরণ কিনতে পারবেন। প্রণোদনার অর্থ লেনদেনে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংককে যুক্ত করা হয়েছে। এক লাখ কৃষকের জন্য বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড। এটি স্ক্যান করলে কৃষকের পরিচয় ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যাবে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি একাধিকবার সুবিধা নেওয়া, ভুয়া কৃষক দেখিয়ে সরকারি সহায়তা গ্রহণ এবং তালিকা তৈরিতে অনিয়মের সুযোগ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব ও সরকারি সহায়তা পাওয়ার তথ্যও পর্যায়ক্রমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষক নির্বাচন ও শ্রেণিবিন্যাসে জমির পরিমাণকে অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি ব্লক ধরে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ শতাংশের কম জমির মালিককে ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতাংশ জমির মালিককে প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ১৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফেনী জেলার নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কার্ড পাবেন।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৪ এপ্রিল দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকে ২২ হাজারের বেশি কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলা ও ১৮ হাজার ১৮০ কৃষি ব্লকের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ভুল কৃষক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিবীমা ও দুর্যোগকালীন সহায়তা আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: