ব্রেকিং

২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে ৪৩০০ ইউপিতে নির্বাচন, অনিয়মে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ AM BST ১৫৭ বার পঠিত
২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে ৪৩০০ ইউপিতে নির্বাচন, অনিয়মে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

collected

আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং নির্বাচনী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করা হবে। প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সহজ হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মানদণ্ড অনুসরণ করে ভালো নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। কমিশনের নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সহযোগিতাও চাওয়া হবে।

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার, মারামারি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো প্রার্থী নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁর প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে। তবে কমিশনের লক্ষ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সবাইকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশোধিত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধিতে নির্বাচনী অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া অপরাধ। একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনের সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে কোনো প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট অথবা তাঁদের নির্দেশনা কিংবা সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হলে লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যেতে পারে।

নির্বাচনী অনিয়মের কারণে কোনো কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হলে কমিশন তা স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর ফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া যাবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পাশাপাশি নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিতে চায় কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, প্রার্থিতা বাতিল এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকর করার ওপর নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: