collected
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। জলবায়ু পরিবর্তন, বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারেল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা জানান। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ প্রস্তুতির কথা জানায়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়। উভয়পক্ষই নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।