ব্রেকিং

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ, অর্থনৈতিক সংস্কারে জোর দিল আইএমএফ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ AM BST ২৮২ বার পঠিত
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ, অর্থনৈতিক সংস্কারে জোর দিল আইএমএফ

collected

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কার কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও জরুরি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি—এই তিন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

দেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের আর্থিক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এজন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ মনে করে, আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।

বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এই অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি।

আইএমএফের মতে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সংস্থাটির সহায়তায় নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আইএমএফের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে উল্লেখ করা সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জুলাইয়ের ওই সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে সংস্থাটি আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: