ব্রেকিং

বিনিয়োগে ৩৫৫ দিনের প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামানোর উদ্যোগ: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ AM BST ২৭ বার পঠিত
বিনিয়োগে ৩৫৫ দিনের প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামানোর উদ্যোগ: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির

collected

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পথে জটিলতা, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, সরবরাহব্যবস্থার উচ্চ ব্যয় এবং নীতির ধারাবাহিকতার ঘাটতিকে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য লাইসেন্স, অনুমতি ও বিভিন্ন ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থার খরচ কমানো জরুরি।

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একজন নতুন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পর যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার পর্যায়ে যেতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। প্রক্রিয়াটি সহজ করে এ সময় ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ১৪ দিনের মধ্যে সব চূড়ান্ত লাইসেন্স বা ছাড়পত্র পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারেন। অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ অন্যান্য অনুমোদনের প্রক্রিয়াও সমন্বিতভাবে সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, দেশের গ্যাসকূপগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে দেশীয় কূপগুলো থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

নতুন বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে আরও টার্মিনাল প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের আদেশ দেওয়ার পরও প্রায় দুই বছর সময় লাগে। টার্মিনাল থেকে সমুদ্রের নিচ দিয়ে মূল গ্যাস গ্রিডে পাইপলাইন সংযোগ করতেও সময় প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের সময়ের মধ্যে একাধিক ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সৌর ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এলডিসি উত্তরণে সংস্কারের পরিকল্পনা

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে একটি পর্যবেক্ষণ কাঠামো গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, এলডিসি উত্তরণ একসময় হবেই; তবে তা যেন ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা না আনে, সে জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন।

তিনি জানান, সময় পাওয়া গেলে প্রথমে ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিয়োগের বাধা দূর করা হবে। এরপর জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা, সরকারি সেবার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্ভব হলে সেবাগুলো ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হবে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা ধরে রাখা। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নয়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তি প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এটিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির কিছু শর্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তবে চুক্তিটি এখনো সংসদে অনুমোদিত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধাপও শেষ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা, ভোজ্যতেল ও এলএনজি কেনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। মার্কিন গমের ক্ষেত্রে অপচয়ের হার তুলনামূলক কম হওয়াকে একটি বিবেচনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এলএনজি প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রথম দুই অর্থবছরে নির্দিষ্ট সময়ে ১৪টি কার্গো আসবে এবং বাকি কার্গো পরবর্তী সময়ে সরবরাহ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, চুক্তির মূল্য নির্ধারণের মডেল গড় করলে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ ডলারের নিচে পড়ে। স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হওয়ায় তিনি দীর্ঘমেয়াদি এ চুক্তিকে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: