বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর তদবির নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ববি হাজ্জাজের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ PM BST ১৭৮ বার পঠিত
বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর তদবির নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ববি হাজ্জাজের

collected

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা কমানোর জন্য দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তদবির করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের পশ্চাৎমুখী আলোচনা ওঠায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে দেনদরবার ও তদবির করছেন। তাঁদের এমন অবস্থানের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিকভাবে সমাজের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানানো সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সময়ের সঙ্গে প্রাচীন সভ্যতার সামাজিক বাস্তবতার তুলনা টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার হাজার বছর আগের মিসর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের পরিস্থিতির সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ২০২৬ সালের প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হওয়া হতাশাজনক।

নারীর টেকসই ক্ষমতায়নের বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারীদের আত্মবিশ্বাস তৈরি, যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধি ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এর পেছনে থাকা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা নয়, এসব সমস্যার মূল কারণ মোকাবিলাও জরুরি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রান্তিক কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, তাঁদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সচেতন ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: