জিয়াউল আহসানের বিচার হবে কারাগারে, ভার্চুয়ালি চলবে কার্যক্রম

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ PM BST ১৮৪ বার পঠিত
জিয়াউল আহসানের বিচার হবে কারাগারে, ভার্চুয়ালি চলবে কার্যক্রম

collected

গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারিক কার্যক্রম এখন থেকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁর আইনজীবী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একক প্রিজন ভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া করা হলে তাঁর প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে তাঁর যাতায়াতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন আইনজীবী।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেয়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়া করা হলে তাঁদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করায় এখন থেকে কারাগারে অবস্থান করেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন জিয়াউল আহসান। এ সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে তারা। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণের অগ্রগতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়াল শুনানি পরিচালনার সিদ্ধান্ত মামলার কার্যক্রমে নতুন ব্যবস্থা হিসেবে যুক্ত হলো।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: