collected
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) উত্তরার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষোভকারীরা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকেরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচার দাবি করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে কারাগারে বন্দি জিএম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বক্তারা বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত কাউকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, এ বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি জিএম কাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়। তবে এ কর্মসূচির বিষয়ে জাতীয় পার্টি বা জিএম কাদেরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।