জামায়াতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ, থাকতে পারেন বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ AM BST ৯৫ বার পঠিত
জামায়াতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ, থাকতে পারেন বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা

collected

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দলটির সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তবে বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে দলকে পরামর্শ দেওয়াই হবে এই পরিষদের মূল কাজ। দল-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ আলোচনা আরও গতি পায়। গত জুনে দলের সর্বশেষ মজলিশে শুরার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দলটি এ বিষয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিশে শুরার পরবর্তী বৈঠকে পরিষদের কাঠামো এবং নীতিগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শুরার বৈঠকে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

পরবর্তী মজলিশে শুরার বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দলটির আমির শফিকুর রহমানের। তিনি বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করলে শুরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হলে জামায়াতের গঠনতন্ত্রে আলাদা ধারা বা উপধারা যুক্ত করে এর সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা হতে পারে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, পরিষদের উদ্দেশ্য, সদস্য নির্বাচন, দায়িত্ব এবং দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে এর সম্পর্ক—এসব বিষয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সদস্যসংখ্যা, সদস্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব চূড়ান্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন নেতা প্রথম আলোকে জানান, পরবর্তী নির্বাহী পরিষদ ও মজলিশে শুরার বৈঠকে সম্ভাব্য কাঠামো এবং কারা এতে যুক্ত হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর দলীয় আমির সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, রুকন বা শপথধারী কর্মী হওয়ার মাধ্যমে দলটির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর নির্দিষ্ট সাংগঠনিক ধাপ পেরিয়ে দায়িত্বশীল ও নেতা হওয়ার সুযোগ আসে। ফলে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান সমর্থন করলেও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা অনেক ব্যক্তির নেতৃত্বে আসার সুযোগ সীমিত।

এই বাস্তবতায় অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ কাজে লাগাতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে। তুলনামূলক বয়োজ্যেষ্ঠ এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা সরাসরি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন না করে বিভিন্ন নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলকে পরামর্শ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাবেক আমলা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, কূটনৈতিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞদের পরিষদে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে সদস্যদের পরিচয়, সংখ্যা ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগও নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সর্বশেষ মজলিশে শুরার বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ধারা পরিমার্জনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীর প্রস্তাবগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংশোধনী কমিটি, এরপর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং সবশেষে মজলিশে শুরায় বিবেচনা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশোধিত বিষয়গুলো দলীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: