collected
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই ও আত্মসাতের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মূল সংবাদ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ ভরি সোনা ছিনতাই ও আত্মসাতের অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলী। গতকাল রোববার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে। অপর গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের চক আলমপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি চরজোতপুর মহল্লায় বসবাস করেন। তিনি মামলার বাদী ব্যবসায়ী সালেহ সুলতানের দুলাভাই।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সালেহ সুলতান পেশায় ট্রাভেল এজেন্ট ও ধান-চালের মজুত ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মাঝেমধ্যে সোনা কেনাবেচা করেন। তিনি রাজশাহীর সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির ব্রাদার্স জুয়েলার্স থেকে গত ৪ ও ৬ আগস্ট ২০ ভরি করে মোট ৪০ ভরি সোনা কেনেন। পরে সেগুলো নিজের বাড়িতে রাখেন।
৭ আগস্ট তিনি ভারতে যাওয়ার আগে তাঁর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে স্ত্রীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা নিয়ে চাচা নজরুল ইসলামের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালীনগর এলাকায় নজরুল ইসলামের কাছ থেকে সোনাগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, কনস্টেবল জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মোহাম্মদ আলী, মামুন রেজা ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মামুন রেজা ও অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করেন সালেহ সুলতান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেইন বলেন, শনিবার মামলা হওয়ার পর রাতেই জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ওসি আরও জানান, বাদীর সোনা ব্যবসার পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। রাজশাহী থেকে ৪০ ভরি গলানো সোনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এসব সোনা পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বাদী সালেহ সুলতান জানান, তাঁর এক খালাতো ভাই সোনা ব্যবসায়ী এবং তাঁর হয়ে সোনা কেনাবেচার জন্য তিনি অনুমোদন পেয়েছেন। বৈধভাবে সোনা কেনাবেচার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশকে দেখাবেন বলেও জানান তিনি।
মামলা করতে দেরির বিষয়ে সালেহ সুলতান বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী তাঁর দুলাভাই হওয়ায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ কারণেও মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি।