collected
দেশের বাজারে টানা দুই দিন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) সারা দেশে গ্যাসের দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনের বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন সেলিম খান। তিনি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ ও সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যার প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দাবিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং পরবর্তী কর্মসূচির নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়নি।
ব্যবসায়ীদের এ ঘোষণার ফলে নির্ধারিত দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হতে পারে। তবে ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টি সংগঠনটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, এর আগে গত ৪ অক্টোবর দেশের বাজারে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহসংক্রান্ত বিষয়গুলো এমনিতেই ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ব্যবসায়ীদের দুই দিনের বিক্রি বন্ধের ঘোষণা বাজারে সরবরাহ ও কেনাবেচার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর স্পষ্ট হবে।
সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ এবং তাঁদের দাবি-দাওয়া পূরণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।