collected
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ১৬৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এ রোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া চারজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এদিকে চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই ২১ হাজার ৮২২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগে ৬২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত আগস্ট থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ওই মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়, যা আগস্টের ২০ হাজার ৫৩৬ জনের তুলনায় অনেক বেশি। অক্টোবরেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। জুনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০৬ জনে। জুলাই মাসে ৯ হাজার ২০৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং সেপ্টেম্বরে তা ৪৩ হাজারের বেশি হয়।
মৃত্যুর হিসাবেও সেপ্টেম্বর ছিল সবচেয়ে উদ্বেগজনক মাসগুলোর একটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে মারা যান ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মারা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯৫ হাজার ৩৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন।
চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া এবং অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই ২১ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এসেছে।