collected
সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যা উল্লেখ রয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে। তাহলে সংবিধান থেকে কিছু বলি, অনুচ্ছেদ ২৮-এ ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ৪১-এ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি সরকার এই সবকিছু নিশ্চিত করছে।’
এবারের দুর্গাপূজায় ছুটি, নিরাপত্তা এবং আনন্দ-সম্প্রীতি নিশ্চিত করার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সর্বোচ্চ ছুটি, নিরাপত্তা ও উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন এবং সব নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার নীতিও সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিএনপি সরকার এসব সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সেই আওয়ামী লীগই হিন্দুদের জমি দখল করে রেখেছে।’ তবে বক্তব্যে উত্থাপিত জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্মসহ নির্দিষ্ট কিছু পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে এ অধিকার আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শর্তসাপেক্ষ।
ধর্মীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং উৎসবের নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন মূল্যায়নে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীনভাবে অধিকার ভোগের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।