collected
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার মামলার শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালের আরেক সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় এদিন উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে শুনানি হয়নি।
আদালত অবমাননার মামলায় অভিযুক্ত দুই আইনজীবী হলেন মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। তারা বুধবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সময় চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটররা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ওই রায় নিয়ে দুই আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। এ অভিযোগের পর ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১১ অক্টোবর এবং সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিষয়ে ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৩ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১২ সালের একটি হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৩ সালের যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাফর আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার পৃথক দুই মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াতের দুই কর্মী হত্যার ঘটনায় জাফর আলমের নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগ বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।