দুই সপ্তাহেও হয়নি নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন, খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:১৪ PM BST ৩০ বার পঠিত
দুই সপ্তাহেও হয়নি নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন, খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে

collected

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন এক সপ্তাহের মধ্যে জারি হতে পারে—এমন প্রত্যাশার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো তা প্রকাশ হয়নি। এমনকি প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্যও পাঠানো হয়নি। খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি হওয়ার কথা থাকলেও বিলম্ব হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক আমলাদের মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, কখনো আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কখনো মাসও লেগে যেতে পারে।

গত ৩১ আগস্ট সরকার নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করে। এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন পে স্কেল ঘোষণার পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন-ভাতা কীভাবে কার্যকর হবে, কোন কোন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এর আওতায় থাকবেন এবং বাস্তবায়নের নিয়ম কী হবে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সেটিও প্রজ্ঞাপনের খসড়ায় নির্ধারণ করতে হয়।

খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ভেটিং করানো হয়। সেখানে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না এবং প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। এরপর চূড়ান্ত খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে এলে সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। মুদ্রণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পরও নতুন পে স্কেলের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে তারা শুনেছিলেন যে অনুমোদিত পে স্কেলের খসড়া এক-দুই দিনের মধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু এখনো তা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, বিষয়টি আটকে নেই। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লাগছে। সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যথাযথভাবে কার্যকর করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

তিনি জানান, দ্রুতই খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। অর্থাৎ জুলাই মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার কথা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫ গঠন করা হয়। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশও করা হয়।

পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: