ব্রেকিং

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৩ PM BST ৩৯ বার পঠিত
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

collected

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরাম উপজেলার খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন তিনি। উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পটি ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো, পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। এরপর তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যায়।

ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধনের পর তিনি ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কর্মসূচি রয়েছে।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে।

সফরের বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন বলে সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় এই প্রকল্পকে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটির বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ, নদী পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ ও সেচ অবকাঠামোর কাজ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: