ব্রেকিং

ফেরদৌসী ও ইশরাকের পদত্যাগে কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩০ PM BST ২৯ বার পঠিত
ফেরদৌসী ও ইশরাকের পদত্যাগে কঠোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

collected

আড়াই সপ্তাহের ব্যবধানে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনায় সরকার ও বিএনপির ভেতরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য কঠোর বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, ক্ষমতার দাপট দেখানো, দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করা কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার ও দলকে বিব্রত করলে পদমর্যাদা কাউকে সুরক্ষা দেবে না—এমন বার্তা দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হয়েছিল ফেরদৌসী আহমেদকে। অন্যদিকে, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে আসেন ইশরাক হোসেন। দুটি ঘটনায় পরিস্থিতি ও অভিযোগের ধরন আলাদা হলেও উভয়ের ক্ষেত্রেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক। এর আগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। পরে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ইশরাকের পদত্যাগের পর বিষয়টি নিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তবে তাঁরা কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার দাপট নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বের সীমা মেনে চলা এবং ব্যক্তির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় সরকার ও দলের ওপর পড়তে না দেওয়া।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছেন, শান্তিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও আচরণের মাধ্যমে বারবার এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, সাদামাটা জীবনযাপন, বিনয়ী আচরণ ও শিষ্টাচার মেনে চলার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই তুলে ধরছেন। দলের প্রত্যেককে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরদৌসী আহমেদ ও ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের একটি লক্ষ্য হলো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সরকার ও দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা। রাজনৈতিক অবস্থান বা পদমর্যাদার কারণে কাউকে রক্ষা করতে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা প্রধানমন্ত্রী চান না বলে সূত্রগুলো মনে করছে।

মন্ত্রিসভার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দাম্ভিকতা দেখাতে না পারেন, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা দলীয় নেতা-কর্মী—কারও কর্মকাণ্ডে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না—এমন বার্তাও রয়েছে এসব সিদ্ধান্তে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জায়গা থেকে ঘটনাগুলোতে দলীয় শৃঙ্খলা, সরকারি দায়িত্বের সীমা এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে পদত্যাগের নির্দেশের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে যেসব ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বড় অংশই সংশ্লিষ্ট সূত্রের মূল্যায়ন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেরদৌসী আহমেদ ও ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ এবং জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সরকার ও দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্তকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: