গ্রামীণকল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর রায়ের স্থগিত আবেদন খারিজ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১২ PM BST ৩২ বার পঠিত
গ্রামীণকল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর রায়ের স্থগিত আবেদন খারিজ

collected

পাঁচ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা গ্রামীণকল্যাণের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। আদালত বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে ওই রায়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণকল্যাণের করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর ফলে পাঁচ করবর্ষের ওই আয়কর পরিশোধের বিষয়ে গ্রামীণকল্যাণের ওপর বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে গ্রামীণকল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন।

মঙ্গলবার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ।

পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। এ কারণে লিভ টু আপিল করার আগ পর্যন্ত রায় বাস্তবায়নসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম যেন না নেওয়া হয়, সে জন্য স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার আদালত পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় না থাকায় এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, গ্রামীণকল্যাণের পক্ষ থেকে চেম্বার আদালতে একটি বিবিধ আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

যেভাবে শুরু হয় আয়কর বিরোধ

২০১৭ সালের ৭ ও ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১৪ নম্বর কর অঞ্চল থেকে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণকল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর দাবি করা হয়।

কর অফিস ২১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের ডাকে। ওই দিন প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য আরও এক মাস সময় চাওয়া হলেও কর অফিস আবেদনটি নাকচ করে ২৬ সেপ্টেম্বর আদেশ দেয়। ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৪ নভেম্বর খারিজ হয়।

পরে এসব আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করে গ্রামীণকল্যাণ। ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত রুল জারি করে জানতে চান, কর অফিসের ২৬ সেপ্টেম্বর ও ১৪ নভেম্বরের আদেশ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।

রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আয়কর দাবির নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুলটি পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে রায় দেন এবং ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর কর অঞ্চলের দেওয়া আদেশ বাতিল করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর লিভ টু আপিল করে।

২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টকে মূল বিষয়বস্তুর ওপর শুনানির নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিভিন্ন ধাপে শুনানি ও আদেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে নির্ধারিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দেন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: