collected
জ্বালানি তেলের দাম একলাফে বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মানুষকে আগের তুলনায় পরিমাণ কমিয়ে অথবা বাড়তি টাকা খরচ করে জ্বালানি কিনতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়েছে।
রাজধানীর মৎস্য ভবনসংলগ্ন রমনা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাফর আহমেদ বলেন, আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫ লিটার অকটেন নিতেন। দাম বাড়ার পর গত দুই দিন ধরে আগের তুলনায় কম পরিমাণে তেল কিনছেন। বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তাকে হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
একই পাম্পে তেল নিতে আসা রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালক আরিফ হোসেন বলেন, আগে ২০০ টাকার তেল নিলেও এখন একই টাকায় আগের তুলনায় কম জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। তাই ৩০০ টাকার তেল নিতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া সহজ নয়। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে সমস্যায় পড়ছেন তিনি।
পাম্পে কমেছে ভিড়
রমনা পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক বলেন, গত দুই দিন ধরে পাম্পে তেল নিতে আসা মানুষের ভিড় কমেছে। তবে এই কমতির পেছনে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নাকি রাজধানীর সাম্প্রতিক সহিংসতা—কোনটি বেশি দায়ী, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তার ভাষ্য, তেলের দাম বাড়ার পর মোটরসাইকেল চালকদের ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। অনেকেই আগের বাজেটের মধ্যেই কম পরিমাণে জ্বালানি নিয়ে চলার চেষ্টা করছেন।
পরিবহন খাতেও বাড়ছে চাপ
রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোমবার থেকে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের তুলনায় ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মিরপুর-সদরঘাট রুটের বিহঙ্গ পরিবহনের হেলপার আবুল কাশেম বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে। কিন্তু ভাড়া বাড়ালে যাত্রীদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
একই বিষয়ে যাত্রী মনসুর আহমেদ বলেন, কয়েকদিন আগেও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে। আবার ভাড়া বাড়লে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে।
শিল্প ও গণপরিবহনে প্রভাবের আশঙ্কা
রমনা পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক বলেন, ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির দাম একবারে এতটা বাড়লে কলকারখানা, গণপরিবহন ও অন্যান্য যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। তার মতে, একবারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় করা হলে চাপ কিছুটা কম হতে পারত।
অন্যদিকে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালক আলমাস আলী জানান, প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে জ্বালানি নিতে হয়। ফলে ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানির বাড়তি খরচের হিসাব সামলানোর দায়িত্ব তার নয়।
সার্বিক প্রভাব
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, ব্যক্তিগত যাতায়াত এবং বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করেন এবং যাদের আয় নির্দিষ্ট, তাদের মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।