মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শফিকুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবি

Pinky Saha Pinky Saha ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২১ PM BST ২৯ বার পঠিত
মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শফিকুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানোর পর স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেন।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জামায়াতের মহানগর নেতাদের অভিযোগ

একই ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের এক নেতার পরিকল্পনা ও ইন্ধনে দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে হামলা চালান। পরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রটির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কথাও উঠে এসেছে।

জামায়াতের নেতারা বলেন, জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইন, প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা ও চিকিৎসাসামগ্রী লুটের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁরা ঘটনার উদ্দেশ্য, হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নিন্দা জানিয়েছে এবি পার্টি

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও জড়িত।

এবি পার্টির দাবি, হামলাকারীরা সরকারি টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করেছে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা।

দলটি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত, লুট হওয়া টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী উদ্ধার এবং পুলিশের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে।

কী ঘটেছিল

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়।

এরপর একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হানিফ মিয়া অবশ্য ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার এ ধরনের ঘটনা চায় না। ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। হামলার পর কেন্দ্রটির নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: