নবম পে স্কেলের আলোচনার মধ্যে সরকারি ভাতা নিয়ে অর্থ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপন

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ AM BST ২৯ বার পঠিত
নবম পে স্কেলের আলোচনার মধ্যে সরকারি ভাতা নিয়ে অর্থ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপন

collected

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আলোচনার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রচলিত ভাতা নির্ধারণের বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শ্রেণির ভাতা হিসাব করার ক্ষেত্রে কোন তারিখের মূল বেতন বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এতে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যেসব কর্মচারী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতা পেয়ে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনাটি প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শ্রেণির ভাতা হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতন ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে সব সরকারি কর্মচারীর সব ধরনের ভাতা একই নিয়মে নির্ধারিত হবে, এমনটি প্রজ্ঞাপনের বক্তব্য থেকে বোঝায় না। কোন কর্মচারী কোন ভাতা পাওয়ার যোগ্য এবং ভাতার পরিমাণ কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি, প্রযোজ্য সরকারি আদেশ ও চাকরির শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলার সময়ে নতুন প্রজ্ঞাপনটি জারি হওয়ায় ভাতা ও বেতন নির্ধারণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে এই প্রজ্ঞাপনকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এতে মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি, নতুন বেতন কাঠামো এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে কার বেতন কত বাড়বে কিংবা আগের সময়ের বকেয়া কত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত, অনুমোদিত বেতন কাঠামো, কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতার ওপর। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বা বকেয়া পাওনার হিসাব নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

কর্মচারীদের নিজ নিজ বেতন স্লিপ, প্রযোজ্য ভাতার বিধান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ভাতার হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অনলাইনে থাকা অনানুষ্ঠানিক বেতন ক্যালকুলেটরের ফলাফলও চূড়ান্ত সরকারি হিসাব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

প্রজ্ঞাপনটির মূল নির্দেশনা হলো, নির্ধারিত আওতার বাইরে থাকা প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতার ক্ষেত্রে আপাতত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনকে ভিত্তি ধরে হিসাব করতে হবে। পরবর্তী সরকারি আদেশ জারি হলে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: