ব্রেকিং

নিরাপদ পানি পৌঁছাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৫ PM BST ৩৯ বার পঠিত
নিরাপদ পানি পৌঁছাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা

collected

সারাদেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পানি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য হলেও দূষিত ও জীবাণুযুক্ত পানি মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পানি সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে নদ-নদীতে প্রচুর পানি থাকলেও অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ছে। এর ফলে উত্তরের কিছু এলাকায় মরুকরণ বা মরুভূমিজনিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দক্ষিণাঞ্চলের পানির সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নদীপথে বঙ্গোপসাগরে মিঠা পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ততা উজানের দিকে বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিভিন্ন সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে নিয়ে যে প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, বৈঠকে শুধু ইউনিসেফের প্রতিনিধিরাই ছিলেন না। বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এসব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ কারণে মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিদেশি সহায়তা ব্যবহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে অতীতে এসব সহায়তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদেশি অর্থায়ন কমে আসার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ধনী দেশগুলোও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সুযোগ ও সহায়তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান।

এ সময় দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে দুর্নীতি দূর করে জনগণের সেবায় সরকারকে আরও কার্যকরভাবে নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: