collected
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। তবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই ধরনের একটি শিশুহত্যার মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে মর্মান্তিক ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি দেশের মানুষকে মর্মাহত করেছে। তিনি এ ধরনের অপরাধের পেছনের কারণ অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বয়স নিহত অপ্রতিমের চেয়ে কয়েক বছর বেশি এবং তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। তিনি বলেন, এদের কর্মকাণ্ডে কিশোর অপরাধচক্রের বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে তদন্তে দেখা যাচ্ছে।
অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী এসব বিষয়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেন। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অপ্রতিম গত শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের মুঠোফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করত। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপ্রতিম হত্যা মামলাতেও তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।