collected
পুনঃ পেনশন, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা এবং মাসিক পেনশন চালুর দাবিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অবসরের ১৫ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো প্রাপ্য সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় দাবি আদায়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ‘ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমাদের কারণে। আমরা কোনো চাঁদাবাজি না, সন্ত্রাসী না, ভিক্ষুক না। আমরা এসেছি আমাদের পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য।’
অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পূর্ণ পেনশন, দুই ঈদে বোনাস, বৈশাখী ভাতা এবং প্রচলিত নিয়মে চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব সুবিধা কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
আন্দোলনকারীরা জানান, ২০০৪ ও ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করছে না গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক সাবেক কর্মী বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো তাঁদের প্রত্যাশিত সমাধান মেলেনি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা তাঁদের ন্যায্য অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা কর্মসূচি নিয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি বলে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধ এবং পেনশন ও ভাতা চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা অনড় রয়েছেন।