ব্রেকিং

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জে ০.৫% রিবেট, যেভাবে কমবে খরচ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৩ PM BST ৬০ বার পঠিত
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জে ০.৫% রিবেট, যেভাবে কমবে খরচ

collected

বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে রিচার্জ করা অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট দিচ্ছে সরকার। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক আগাম টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি মিটারের ব্যালেন্স ও ব্যবহারের হিসাব দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংকের বুথ এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে রিচার্জ করা যায়। মিটারের ব্যালেন্স কমে গেলে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রিপেইড মিটারের অন্যতম সুবিধা হলো, মাস শেষে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল আসার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান বাসসকে বলেন, মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করছেন, সেই হিসাব ধরে তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। মিটারে অবশিষ্ট টাকা দেখা যায় বলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়েও তিনি সচেতন হয়েছেন।

বগুড়ার নেসকো গ্রাহক মুজাহিদ শেখ বলেন, আগে মাস শেষে কত টাকা বিল আসবে, তা বুঝতে পারতেন না। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রিচার্জ করছেন। তাঁর মতে, বিদ্যুতের মূল খরচ একই থাকলেও সচেতনভাবে ব্যবহার করলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া, বিল তৈরি ও বিতরণের প্রয়োজন হয় না। এতে জনবল ও যাতায়াত ব্যয় কমে। পাশাপাশি অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, লোড ব্যবস্থাপনা এবং বিলিংয়ের নির্ভুলতা বাড়াতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিংসংক্রান্ত জটিলতা কমানোর সুযোগও রয়েছে।

প্রিপেইড সংযোগ নিতে নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। তবে আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্রথম রিচার্জে এসব চার্জ সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থের ওপর ০.৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ ও সমস্যা কমাতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিতরণ সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ ও প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে মিটারের ব্যবহারবিধি এবং সুবিধাগুলো তুলে ধরতে পারে।

গ্রাহকসংখ্যার হিসাবে, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসির (নেসকো) ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ১৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮১ জন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ গ্রাহকের মধ্যে এ সংখ্যা ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭। আর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের মিটার প্রিপেইড করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ বলেন, রিবেটসহ বিভিন্ন সুবিধার কারণে প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমতে পারে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারও ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। প্রিপেইড মিটারসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ জানাতে বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ চালু রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: