ব্রেকিং

রমজানের চার মাস আগেই বাড়ছে ছয় পণ্যের দাম, চাপে সাধারণ মানুষ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ PM BST ২২ বার পঠিত
রমজানের চার মাস আগেই বাড়ছে ছয় পণ্যের দাম, চাপে সাধারণ মানুষ

collected

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সকাল-বিকালের নাশতা থেকে শুরু করে তিন বেলার খাবার, রান্নার গ্যাস, সাবান-শ্যাম্পু ও ডিটারজেন্ট—সবকিছুর খরচ বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি আয়। এর মধ্যেই পবিত্র রমজান মাসের প্রায় চার মাস আগে ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে রোজার বাজার নিয়ে আগাম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভোক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। ভালো মানের ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা।

এ ছাড়া খোলা চিনির কেজি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাবরুম খেজুরের দাম। সাত দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খেজুরের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আবু সালেহ বলেন, ছেলেমেয়ের জন্য প্রতি সপ্তাহে ছোলা ও খেজুর কেনেন তিনি। এবার ছোলার কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং খেজুরে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। রমজান শুরুর চার মাস আগেই অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর আলী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও ছোলার দামে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রিতে কমিশন কম পাওয়া এবং মিল থেকে সরবরাহ কম থাকায় খোলা সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়েছে। এতে দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আয় না বাড়লেও সব শ্রেণির মানুষের ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ব্যবহার্য সামগ্রীর দামও ঊর্ধ্বমুখী। রমজানের চার মাস আগেই ছয়টি পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করায় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পণ্যের দাম যৌক্তিক কারণে বাড়ছে কি না, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, মৌসুমের কারণে ডিম ও শাকসবজির দামে সাময়িক ওঠানামা থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল, জোগান পর্যাপ্ত এবং আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাজারে মিশ্র চিত্র

নিত্যপণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও দেখা গেছে দামের ওঠানামা। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১৯০ টাকা।

তবে কমেছে ডিমের দাম। প্রতি ডজন বাদামি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সাদা ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে দুই ধরনের ডিমের দামই ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে এখনো ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।

রাজধানীর বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়া দাম লক্ষ করা গেছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পোয়া মাছ ২৬০ টাকা ও শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, সীমিত আয় এবং রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন ভোক্তাদের প্রধান প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: