collected
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার করার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর আবেদন করেছেন রুনির ভাই নওশের আলম।
রোববার তিনি এ আবেদন করেন। আবেদনে দীর্ঘদিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুন হন। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা হয়নি।
প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর র্যাব তদন্তের দায়িত্ব নেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
নওশের আলম আবেদনে বলেন, টাস্কফোর্স গঠনের পরও তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন
আবেদন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নওশের আলম লিখিত আবেদন করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করতে পারে কি না, অথবা কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা যায় কি না—এমন প্রত্যাশার কথা আবেদনে জানানো হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আবেদনটির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত ‘ব্যাপক বা পদ্ধতিগত’ অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। আওতাভুক্ত না হলে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।