ব্রেকিং

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৫ PM BST চট্টগ্রাম জেলা ৬১ বার পঠিত
তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

collected

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। দুপুরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯ নম্বর কূপ থেকেও শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকেও গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) পরিচালনাধীন তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলনের কারণে পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ২০১২ সালে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে জরিপ চালানো হয়। পরে ২০২০ সালে ওই জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। পরে ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

একই ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ হয়েছে। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতার কূপটিতে বর্তমানে কারিগরি কার্যক্রম চলছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা এই কূপ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা কূপটিতে ভালো গ্যাস চাপ পাওয়ার আশা করছেন।

তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতার এই কূপ খননে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও এগিয়ে চলছে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার লক্ষ্যে খনন চলা এই কূপকে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে কূপটির ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে।

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, ২৮ নম্বর কূপ থেকে আপাতত দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ২৯ নম্বর কূপ থেকে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি ৩০ নম্বর কূপের খননও শিগগির শুরু হবে।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, কূপটি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন। বড় ধরনের জটিলতা না হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই কূপ থেকেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে প্রতিটি দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তার মতে, এই গ্যাস যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে পাওয়া দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া দেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: