collected
নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ দিন দিন বাড়লেও এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারছে না তথ্য কমিশন। দীর্ঘদিন ধরে কমিশনার না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শুধু তথ্য না পাওয়ার অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রকাশনাসহ নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ রয়েছে।
তথ্য কমিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কমিশনে প্রায় সাড়ে ৮০০ অভিযোগ জমা রয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ৭৮০। কমিশন কার্যকর না থাকায় এসব অভিযোগের শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মূলত রুটিন প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে নাগরিকদের। নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়া, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া কিংবা আবেদনের বিষয়ে সন্তোষজনক সাড়া না পেলে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও শুনানি করতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা, জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের। ফলে তথ্য অধিকার আইনের বাস্তব প্রয়োগে কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দুই বছরেও হয়নি নতুন কমিশন
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম একই বছরের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। পরে আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও বাদ দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন কমিশন গঠন করেনি। পরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাত মাসের বেশি সময় পার হলেও তথ্য কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
তবে গত ৯ জুলাই প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, বাছাই কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেবেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাছাই কমিটি আবেদন আহ্বান করে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুতই তথ্য কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস আজ
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
দিবসটি উপলক্ষে তথ্য কমিশনেও আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিজওয়ান-উল-আলম বলেন, দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকায় নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্য অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সূচকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের কথা বলেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তথ্য কমিশন গঠন করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করা প্রয়োজন।
অভিযোগ বাড়লেও শুনানি নেই
তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকায় বর্তমানে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগগুলোর শুনানি হচ্ছে না। ফলে আইন অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করা নাগরিকদের একটি অংশ আইনি প্রতিকার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়; অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর তথ্য কমিশনও প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় কমিশন নেতৃত্বহীন থাকায় তথ্য অধিকার আইনের বাস্তব প্রয়োগ ও নাগরিকের তথ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।