ব্রেকিং

ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৮ PM BST ২৬ বার পঠিত
ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

collected

ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা চায় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, পানিবণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার টেবিলে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। ফলে ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

পানি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এখন ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে, যাতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করতে পারেন।

দুই দেশের পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের কাছে প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারবেন। এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগির ভারতীয় পক্ষের জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানিচুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ১৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। সিনিয়র কর্মকর্তা, নেতৃত্ব পর্যায় এবং পানিবিষয়ক আলোচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারও বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই পানি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনে যে অবস্থানগুলো রয়েছে, সেগুলোও আলোচনার সময় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও কার্যকর সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দেশের ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীত বা সাধারণ ধারায় কাজ না করে গুণগত উপায়ে দেশের ভবিষ্যতের সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে চায় সরকার।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: