ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক ও গায়ক শচীন দেববর্মনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ ১ অক্টোবর। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি গায়ক ও সুরকার হিসেবে তৈরি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তাঁর সৃজনশীলতায় শতাধিক চলচ্চিত্রের গানের অ্যালবাম পেয়েছে বিশেষ পরিচিতি।
শচীন দেববর্মনের সংগীত পরিচালনায় কণ্ঠ দিয়েছেন উপমহাদেশের প্রথম সারির বহু কিংবদন্তি শিল্পী। লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি, গীতা দত্ত, মান্না দে, আশা ভোসলে, মুকেশ ও তালাত মাহমুদের মতো শিল্পীরা তাঁর সুরে গান গেয়েছেন।
ত্রিপুরার আগরতলায় কুমার বোর্ডিং স্কুলে শচীন দেববর্মনের শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে তাঁর বাবা তাঁকে কুমিল্লার একটি স্কুলে ভর্তি করান। এরপর কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। সেখান থেকে ১৯২২ সালে আইএ এবং ১৯২৪ সালে বিএ পাস করেন।
সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় পারিবারিক পরিবেশেই। তাঁর বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন ছিলেন সেতারবাদক ও ধ্রুপদি সংগীতশিল্পী। বাবার কাছেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন শচীন দেববর্মন। পরে ১৯২৫ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সংগীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে সংগীতচর্চা করেন।
১৯৩৪ সালে অল ইন্ডিয়ান মিউজিক কনফারেন্সে গান গেয়ে তিনি সংগীতাঙ্গনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরের বছর বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্সে ঠুমরি পরিবেশন করে মুগ্ধ করেন প্রখ্যাত ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁকে।
১৯৪০ সালে শশধর মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে মুম্বাইয়ে থাকা শুরু করেন শচীন দেববর্মন। এরপর ভারতীয় চলচ্চিত্রের সংগীতজগতে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ ও সফল পথচলা। ‘মাটির ঘর’, ‘শিকারী’, ‘দিল কি রানি’, ‘মিস ইন্ডিয়া’, ‘তেরে ঘর কে সামনে’, ‘ক্যায়সে কহুঁ’, ‘জয়তী’ ও ‘প্রেম পূজারী’সহ বহু চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন তিনি।
কর্মজীবনে শচীন দেববর্মন পেয়েছেন একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড, সংগীত নাটক একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, এশিয়া ফিল্ম সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড ও পদ্মশ্রী।
১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। তবে তাঁর সৃষ্টি করা গান, সুর ও সংগীতায়োজন আজও ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়।