Photo Collected
জার্মান ভাষার সিরিজ ‘আনফ্যামিলিয়ার’ মুক্তির পর দ্রুতই আন্তর্জাতিক দর্শকের নজর কেড়েছে। গুপ্তচরবৃত্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও সিরিজটির গল্প শুধু আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে আটকে নেই। বরং এক দম্পতির সম্পর্ক, লুকানো অতীত, অবিশ্বাস এবং পরিবারকে রক্ষা করার লড়াই গল্পটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ছয় পর্বের সিরিজটি প্রথম সপ্তাহেই অ-ইংরেজি সিরিজের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। ২ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারির সপ্তাহে সিরিজটির ভিউ ছিল ৪৯ লাখ। পরের সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক দুই জার্মান গোয়েন্দা এজেন্ট সাইমন ও মেরেট শ্যাফার। একসময় জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডিতে কাজ করলেও বর্তমানে তাঁরা বার্লিনে পরিচয় গোপন করে একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন। মেয়ে নিনাকে নিয়ে তাঁদের জীবন বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও অতীতের গোপন ঘটনা সেই জীবনে আবারও ফিরে আসে।
নিনার ১৬তম জন্মদিনের আয়োজনের মধ্যেই এক আহত ব্যক্তি তাঁদের কাছে সাহায্য চাইলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ধীরে ধীরে সামনে আসে ১৬ বছর আগের বেলারুশ অভিযান এবং সেই সময়ের রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কোলিভের প্রসঙ্গ। পুরোনো শত্রু, গুপ্তচর, খুনি ও গোপন তথ্যের সূত্র একে একে বর্তমান জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে।
তবে বাইরের শত্রুর পাশাপাশি সাইমন ও মেরেটের সম্পর্কের সংকটও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এত বছর একসঙ্গে থাকার পরও তাঁরা একে অপরের কাছে অনেক তথ্য গোপন রেখেছেন। ফলে নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের সংসার এবং মেয়েকেও রক্ষা করতে হয়। এ কারণেই সিরিজটিকে শুধু স্পাই থ্রিলার না বলে পারিবারিক ড্রামা, রহস্য ও অ্যাকশন থ্রিলারের মিশ্রণ বলা যায়।
মেরেট চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুসানে ভল্ফ এবং সাইমনের ভূমিকায় রয়েছেন ফেলিক্স ক্রেমার। তাঁদের অভিনয় সিরিজটির অন্যতম শক্তি হিসেবে সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ভল্ফের চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্ব এবং ক্রেমারের চরিত্রের জটিলতা আলোচনায় এসেছে। জোসেফ কোলিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্যামুয়েল ফিনজি। এ ছাড়া সিরিজটিতে রয়েছেন আন্দ্রেয়াস পিটশমান, হেনরি হ্যুবশেন, মায়া বন্স, সেয়নেব সালে, জেনিয়া রিকোভা, নাটালিয়া বেলিৎসকি, অ্যারন আল্টারাস ও লরেন্স রুপসহ অনেকে।
সিরিজটির নির্মাতা পল কোটস। চিত্রনাট্যে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন কিম জিমারমান ও আলেক্সান্ডার জাইব্ট। পরিচালনায় ছিলেন লেনার্ট রুফ ও ফিলিপ লাইনেমান। ছয় পর্বের প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ মিনিট। গল্পের আবহ তৈরিতে বার্লিন শহরকেও গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী, ‘আনফ্যামিলিয়ার’ মোট ৩ কোটি ১৬ লাখ ভিউ পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডি জাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সিরিজটি ৩৫টি দেশে নেটফ্লিক্সের তালিকায় শীর্ষে উঠেছিল।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও মোটের ওপর ইতিবাচক। রটেন টমেটোজে প্রথম মৌসুমের টমেটোমিটার স্কোর ৭৮ শতাংশ এবং দর্শক স্কোর ৬৯ শতাংশ। অভিনয়, চরিত্র নির্মাণ, রহস্য এবং পরিচালনার প্রশংসার পাশাপাশি কিছু সমালোচনায় গল্পের কয়েকটি অংশকে গতানুগতিক, কিছুটা ধীরগতির ও অনুমানযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘আনফ্যামিলিয়ার’-এর সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে একসঙ্গে তুলে ধরা। পুরোনো রহস্য, দাম্পত্য অবিশ্বাস, পরিবারকে রক্ষা করার লড়াই এবং জার্মানির নিজস্ব গোয়েন্দাজগতের গল্প—এই সমন্বয়েই আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে সিরিজটি আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।